ডেস্ক: বছরের শেষপ্রান্তে হরতাল ও অবরোধের মতো চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুল-কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষাবর্ষের শেষপ্রান্তে ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। তবে ঝুঁকি এড়াতে যতটা সম্ভব অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। ইতিমধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি গত সপ্তাহে একদিন হরতাল ও টানা তিন দিন সারাদেশে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। গতকাল রবিবার থেকে আবার তাদের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির তিন দিনের অবরোধের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর সকালে জুরাইনের গেন্ডারিয়া স্টেশন এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নচূড়া নামে একটি বাসে হামলা চালানো হয়। অল্পের জন্য বেঁচে যান বাসে থাকা ১৮-২০ শিক্ষার্থী।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন চূড়ান্ত করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এএনএম সামছুল আলম খান জানান, তার প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজনীতিক কর্মসূচির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হলেও উপস্থিতি কম বলে জানান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, অবরোধের কারণে অভিভাবকরা রাস্তায় যাতায়াত নিরাপদ মনে করছেন না। বছরের শেষ সময়ে তো স্কুল বন্ধও রাখা যায় না। আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা আছে, সামনে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি। এ সময়ে স্কুলের প্রশাসনিক অনেক কাজ থাকে।
অন্তত নির্বিঘ্নে বার্ষিক পরীক্ষাটা দেওয়ার সুযোগ দিতে রাজনীতিবিদদের কাছে দাবি জানান ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিহা তাবাসসুম। তিনি বলেন, ‘এখন অবরোধের জন্য ভয়ে ভয়ে স্কুলেও আসতে হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে পরীক্ষা নিয়ে বাবা-মাও চিন্তায় পড়ছেন। রাজনীতিবিদরা আমাদের দেশের জন্য রাজনীতি করেন। কেন বার্ষিক পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ?’
রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে ক্লাস পরীক্ষা আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
তিনি বলেন, অনেক দিন রাজনীতি স্থিতিশীল ছিল। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এমন সময় ফের ২০১৪ সালের মতো সহিংসতা শুরু হলো। এই দুর্যোগে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা খাত। করোনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেছিলাম এখন মানুষ সৃষ্ট দুর্যোগ শুরু হলো। আমরা সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নষ্ট যেন না হয়, ততটা সম্ভব অনলাইনে শুরু করতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আইইউবিএটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে অফলাইনে।
চলমান সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, দেশে শিক্ষাসহ সমস্ত কিছু ব্যাহত করার বিএনপির অপচেষ্টা সফল হবে না। খুব শিগগির দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরিপূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।