ডেস্ক: বিট কয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির বা ক্রিপ্টোর অবৈধ ট্রেডিং, অনলাইন জুয়া ও হুন্ডি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। এসব কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে সব বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজে প্রচার প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে সব স্কুল-কলেজে ক্রিপ্টোকারেন্সির ট্রেডিং ও অনলাইন জুয়াবিরোধী প্রচারণা চালাতে অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক ও মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। বাংলাদেশ ফাইন্যন্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরামর্শে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে সব স্কুল-কলেজে ক্রিপ্টোকারেন্সির ট্রেডিং ও অনলাইন জুয়াবিরোধী প্রচারণা চালাতে অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক ও মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।
বিএফআইইউ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন গ্যাম্বলিং, বেটিং, ফরেন এক্সচেঞ্জ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং এবং হুন্ডির মাধ্যমে সংঘটিত অবৈধ লেনদেন মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন পর্যালোচনায় এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার দৃষ্টান্ত উঠে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
এছাড়াও এসব অবৈধ লেনদেনে জড়িত হয়ে জনগণ বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছে। দেশীয় আইন অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে ডলার কেনাবেচা করা বা বিনিয়োগ করা নিষিদ্ধ। এছাড়া গ্যাম্বলিং, বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং হুন্ডির লেনদেনও বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। এসব ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের ফাঁদে পড়ে তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারাচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর এসব তথ্য জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খানকে চিঠি পাঠান বিএফআইইউ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। ওই চিঠিতে তিনি অবৈধ গ্যাম্বলিং, বেটিং, ফরেন এক্সচেঞ্জ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং ও হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা এবং এসব লেনদেনে জড়িত না হওয়ার বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।