আর্কাইভ  সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬ ● ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
আর্কাইভ   সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম: ঢাবিতে অনলাইন ক্লাস       নিয়ম ভেঙে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার নিয়োগ, অনিয়মেই বাড়লো মেয়াদ       ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সিট প্ল্যান ও নির্দেশনা প্রকাশ       বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায় যেসব দেশের       ২দিন ছুটিসহ পপুলারে চাকরি      

কাদের-নওফেলের নির্দেশে বন্ধ হয় বিশ্ববিদ্যালয়, নেপথ্যে ইউজিসি সচিব

বুধবার, ১৪ আগস্ট ২০২৪, দুপুর ১১:১১

কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ১৬ জুলাই মধ্যরাতে হঠাৎ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারকি প্রতিষ্ঠান মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সব শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার জন্য নির্দেশনা দেন ইউজিসির তৎকালীন সচিব ফেরদৌস জামান ও একজন সদস্য।

সচিবের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল ত্যাগ করতে হবে। এরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ হয়ে পড়েন। বাসায় ফেরার পথে নানা জায়গায় হামলার শিকার হন তারা। শিক্ষার্থীদের এই বিপদে ফেলানোর জন্য ওই সময়ের দায়ীদের শাস্তি চেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

জানা গেছে, কমিশনের সচিব পদ থেকে সদ্য অপসারিত ফেরদৌস জামান ও একজন সদস্য অতি উৎসাহী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন বলে সংস্থাটির প্রশাসন শাখার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান। যদিও কমিশনের ওই সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করতে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফোন করে বন্ধের নির্দেশ দেন।

তার দাবি, সরকারের নির্দেশ তখন আমরা মানতে বাধ্য ছিলাম। কোন আইনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ওই সময় দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না তাই আইনি বিষয়টি দেখার সুযোগ হয়নি।

ইউজিসির প্রশাসন শাখার কর্মকর্তারা বলেন, কোটা আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করেন ইউজিসির সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জহুরুল হক হলের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস জামান। তিনি মন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যলয়গুলো বন্ধের পরামর্শ দেন। এরপর কমিশনের চলতি দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যানকে অবহিত করে চিঠি ইস্যু করে দেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে কমিশনের অন্যান্য সদস্য জানাতে হয়। সেটি তিনি করেননি।

তাড়াহুড়া করে ১৬ জুলাই মধ্যরাতে প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয় ইউজিসি। একটু পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থলে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ কেন করা হলো, কোন আইনে করা হলো, এর কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

মন্তব্য করুন


 

Link copied