নিজস্ব প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লাস্টিক পণ্যের দূষণ রোধ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে “টিম প্লাস্টিকের আলো” নামে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী।
সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট রোড সংলগ্ন স্থানে প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহের জন্য একটি ঝুড়ি স্থাপন করে শিক্ষার্থীরা। ঝুড়ির পাশে খুঁটি দিয়ে এটির ব্যবহার নির্দেশনাও টাঙিয়ে দেওয়া হয়। মূলত ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল রিসাইকেল করে সেখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই যাত্রা।
“ আপনার হাতের অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের বোতলটি হয়ে উঠুক কোন এক পিছিয়ে পড়া পরিবারের হাসিমুখের কারণ ”
প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে এই কার্যক্রম পরিচালনাকারী শিক্ষার্থীরা হলেন পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, ফয়সাল, সাবির ও জোহানী।
এর কার্যক্রম সম্পর্কে বলতে গিয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘৩য় বিশ্বের এই দেশে আমরা এখনো পরিবেশ নিয়ে খুব বেশি সচেতন না। তাই তাদেরকে এর প্রতি আকৃষ্ট করতেই আমরা ভিন্ন উপায়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্লাস্টিক সংগ্রহ করে সেখান থেকে রিসাইকেল এর মাধ্যমে টাকা উপার্জনের পাশাপাশি নতুন পণ্য উৎপাদন এর শিক্ষাও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে দেওয়া হবে ও এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রদানে ব্যয় করা হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং প্লাস্টিক এদিক সেদিক না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অনুরোধ করেন।’
তাদের এই কাজ সাফল্যমন্ডিত হবে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রতিটা কাজ প্রথমে শুরু করতে হয়। এরপর আমরা কেমন সাড়া পাচ্ছি এর উপর নির্ভর করে পরবর্তীতে অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’
আরেক শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, ‘প্লাস্টিক আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, এর সহজলভ্যতার কারণে আমরা একে ছাড়া চলতে পারি না। কিন্তু আমরা যদি ব্যবহার্য প্লাস্টিকের পুনরুৎপাদন করি তবে সেটি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী করবে প্রান্তিক জনপদের মানুষকে।’
তারা এই কার্যক্রম মাস দুয়েক পরিচালনা করে ভালো সাড়া পেলে একে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সেচ্ছাসেবী সংগ্রহেরও কথা জানান।