আর্কাইভ  রবিবার ● ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ● ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
আর্কাইভ   রবিবার ● ২৬ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম: ঢাবিতে অনলাইন ক্লাস       নিয়ম ভেঙে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার নিয়োগ, অনিয়মেই বাড়লো মেয়াদ       ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সিট প্ল্যান ও নির্দেশনা প্রকাশ       বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায় যেসব দেশের       ২দিন ছুটিসহ পপুলারে চাকরি      

দূরপাল্লার বাস বন্ধ রেখেই জবিতে চলছে ক্লাস-পরীক্ষা

রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৩, দুপুর ১০:৩৬

ডেস্ক: বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ক্লাস-পরীক্ষা চালু রেখেই শিক্ষার্থীদের বহনকারী দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিছু বিভাগে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও অধিকাংশ বিভাগেই ক্লাস-পরীক্ষা চালু রয়েছে। এতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালেও বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরপাল্লার পরিবহন সেবা। এরপর ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে দূরপাল্লার কিছু বাস বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। অবরোধের প্রথম দিনে দুইটি বাস হামলা ও ভাংচুরের শিকার হলে তা একেবারেই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে রোববার থেকে টানা দুইদিন অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ সময় বাস বন্ধ রাখা হলেও চালু রয়েছে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কয়েকটি বিভাগ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করলেও অনেক বিভাগই তা মানছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে অবরোধ চলাকালে বাসে ভাংচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থীদের রয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কাও।

বাসে নিয়মিত চলাচলকারী রায়হান নামের শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ক্লাস-মিড পরীক্ষা চলছে। কিন্তু আমাদের রোডের বাস বন্ধ। এতে অবরোধের মধ্যে ক্যাম্পাসে যেতে না পারায়  মিড পরীক্ষা দিতে পারিনি। বাস বন্ধ রাখলে ক্লাস-পরীক্ষা খোলা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা যারা বাসে যাতায়াত করি, তারা কি করবো? অবরোধের মধ্যে বাইরে বের হলেও ভয়ে থাকি। এই বুঝি হামলা হলো!

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ ভৌমিক জানান, অবরোধের প্রথম দিনে গাড়িতে আগুন ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দুইটা বাসেও হামলা হয়েছিল। সেজন্য কোষাধ্যক্ষ স্যার ও প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে দূরপাল্লার বাসগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ এটা অনেক ঝুঁকি হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার দূরপাল্লার বাস চলেছেও। কিন্তু স্টুডেন্ট আসে মাত্র ৪-৫ জন করে। তাহলে চালানোর চেয়ে না চালানোই তো নিরাপদ। তবে ঢাকার মধ্যে বাসগুলো চলছে।

এদিকে চলমান হরতাল-অবরোধে নিরাপত্তার কারণে কিছু বিভাগ ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করলেও এর একটা সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন। ক্ষতি পুষিয়ে দিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন সিনিয়র শিক্ষকদের একটি অংশ।

তারা বলছেন, আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করছি। কারণ যেভাবে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে, ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে সেখানে শিক্ষার্থীদের বিপদের মধ্যে ফেলতে পারি না। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শনিবারে ক্লাস-পরীক্ষা চালু করলে কিছুটা সুবিধা হবে। তারা মানসিক অশান্তি থেকেও রক্ষা পাবে।

শনিবারে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে শিক্ষার্থীরাও। ভবিষ্যতের শঙ্কার কথা ভেবে শনিবারে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আছমা বিনতে ইকবাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমরা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করেছি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই তা করছে। দূরপাল্লার বাসও চলছে না নিরাপত্তার জন্য। বাচ্চাদের বিপদের মধ্যে তো ফেলতে পারি না। কিন্তু তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণত শনিবারে অবরোধ দিচ্ছে না। এই সময়ে প্রশাসন ক্লাস-পরীক্ষার ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীরা কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা আন্তরিক, বাকিটা প্রশাসন দেখলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকটি বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, শুক্র-শনিবারে অবরোধ না থাকলে ক্লাস-পরীক্ষা চালানো যেতে পারে। এখন অধিকাংশ বিভাগেই সেমিস্টার ফাইনাল। অন্তত পরীক্ষাগুলো নেওয়া গেলেও শিক্ষার্থীরা ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে। অবরোধের মধ্যে কোনো শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলার পক্ষে না। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রশাসন এটি ভেবে দেখতে পারে।

অবরোধ চলাকালে ক্লাস-পরীক্ষা চালু থাকার বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, পরীক্ষার বিষয়গুলো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিভাগের যে কমিটি আছে, তারা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। এর আগেও অবরোধ বা হরতালে বিভাগগুলোর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নিতে দেখিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার একটা বিষয় এখানে আছে। শিক্ষকরা কখনোই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে দিবে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা তো শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই সিদ্ধান্ত নেই। পরীক্ষার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট সিদ্ধান্ত নিবে। শিক্ষার্থীরা চাইলে শনিবারে পরীক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাধা নেই। আমরা সহযোগিতা করবো।

এবিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য  ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদকে ফোন দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

মন্তব্য করুন


 

Link copied