মানুষ যদি তার ভবিষ্যৎ আগেভাগে জেনে যায় তাহলে বরং বিপদ বেশি। সিদ্ধার্থ ঘোষের লেখা একটা কল্পবিজ্ঞান আছে। নাম ‘টাইম মেশিনের টোপ’। গল্পের নায়ক সায়ন্তন একটা টাইম মেশিন তৈরি করে।
যন্ত্রটা তৈরি করার জন্য এক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সাহায্য নিয়েছিল। তার নাম সুনীল। তারপর সেই যন্ত্রের সাহায্যে এক সপ্তাহ পরের কলকাতায় চলে যায় সায়ন্তন। সেদিন শহরের সবচেয়ে চমকটি ছিল রশিদ নামের এক দিনমজুরের ২০ লাখ টাকার লটারি জয়। লটারির নম্বরটাও জেনে আসে সায়ন্তন। ২০৭১৪৫। এ ব্যাপারটা জেনে যায় সুনীল। ওর লোভ হয়।
সারা শহর চষে বেড়ায় ওই নম্বরের লটারির খোঁজে। পেয়েও যায়। ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। টিকিট কিনে বাড়ির পথ ধরে সুনীল। কিন্তু মাঝপথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে।
মাথায় ডাণ্ডার বাড়ি মেরে টাকা, ঘড়ি, সোনার আংটি লুটে নেয় ছিনতাইকারীরা। অজ্ঞান সুনীলকে হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। ওদিকে রশিদ নামের সেই দিনমজুর কুড়িয়ে পায় লটারির টিকিটটা। পুরস্কারও পায় সে। আর সুনীল তখন হাসপাতালে।
সুনীল যদি ভবিষ্যৎটা জানতে না পারত তাহলে কী হতো? রশিদ কি লটারির পুরস্কার জিতত? হয়তো জিতত। কুড়িয়ে পেয়ে নয়, নিজেই টিকিট কেটে।
তাত্ত্বিকভাবে টাইম ট্র্যাভেল সম্ভব, কিন্তু তার কিছু জটিলতাও আছে। ওপরের ঘটনাটা সে রকমই একটা জটিলতা। এ ছাড়া গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স, টুইন প্যারাডক্সের মতোও জটিলতা আছে। সেগুলো নিয়েও আমরা খুব শিগগির আলোচনা করব, কালের কণ্ঠের অনলাইনে।